নমস্কার, আশা করি সবাই ভাল আছেন, আজকে আমি হ্যাকিং ও হ্যাকার সম্পর্কে Monipuri-IT.com এ শ্যামল দাদার একটি লেখা বাংলা অনুবাদ  করে  আপনাদের সামনে উপস্থাপন করতেছি, তাহলে শুরু করা যাক।

আজকে Hacking বিষয় নিয়ে আলোচনা করব। আমরা যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করি হ্যাক, হ্যাকিং ও হ্যাকার এই সব বিষয় সম্পর্কে ভাল ধারণা থাকার প্রয়োজন কারণ, এ বিষয় সর্ম্পেকে ভাল ধারণা না থাকলে যে কোন সময় হ্যাকিং এ শিকার হতে পারি। যেমন- একজন হ্যাকার আপনার facebook বা gmail আইডি হ্যাক করে আপনার আইডি দিয়ে কাউকে হুমকি দিল, আপনি কোন অপরাধ না করা সত্বেও প্রাথমিক ভাবে আপনি  অপরাধী বলে গন্য হবেন। তাই ইন্টারনেট ব্যবহারকারী হিসেবে হ্যাক, হ্যাকার ও হ্যাকিং সর্ম্পেকে ভাল ধারণা থাকা প্রয়োজন। আমি আশা করি আজকে আমার পোষ্টটি পড়লে হ্যাক, হ্যাকার ও হ্যাকিং কি তা জানতে পারবেন।

হ্যাকিং কি ?
“হ্যাক মানে কোন জিনিসকে নিজের মত করে পরিবর্তন করা, হ্যাক করার পদ্ধিতিই হল হ্যাকিং, আর যে হ্যাক করে তাকে হ্যাকার বলা হয়।”

এখন জেনে নেওয়া যাক হ্যাকার কিভাবে হ্যাক করে?
কোন মিডিয়া ডিভাইস, সফটওয়্যার বা ওয়েবসাইট তৈরীর সময় বা ব্যবহারের ভুলের কারণে অনেক জায়গায় দূর্বলতা বা ভুল থাকে হ্যাকিং এর ভাষায় এই দূর্বলতা বা ভুল কে vulnerability বলে। হ্যাকাররা ঐ দূর্বল জায়গাই তাদের হ্যাকিং কৌশল ব্যবহার করে মিডিয়া ডিভাইস,সফটওয়্যার বা ওয়েবসাইট নিজের নিয়ন্ত্রনে নিয়ে নেয় বা নিজের মত করে পরির্বতন করে।

হ্যাকারের প্রকারভেদ
সাধারণত আমরা হ্যাকারকে তিন ভাগে ভাগ করে থাকি।
Whitehat hacker
Blackhat hacker
Greyhat hacker
what-is-hacking
হ্যাকারের এই সব নাম দেওয়ার পিছনে একটি কারণ রয়েছে , যেমন  বিপদজনক ঘোষণা করার জন্য লাল পতাকা ব্যবহার করা হয়। ঠিক তেমনি হ্যাকারের হ্যাক করার উদ্দেশ্য বিবেচনা করে প্রতীক হিসেবে তিন ধরনের হেড (টুপি) ব্যবহার করে থাকে।

Whitehat hacker (ওয়াইটহেট হ্যাকার) : Whitehat hacker কে Ethical hacker (ইথিকাল হ্যাকার) ও বলা হয়। সাদা টুপির হ্যাকাররা ভাল হ্যাকার এদের কাজ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। যেমন- কোন মিডিয়া ডিভাইস, সফটওয়্যার বা ওয়েবসাইটের মালিকেরা তার মিডিয়া ডিভাইস, সফটওয়্যার বা ওয়েবসাইট হ্যাক না হওয়ার জন্য Whitehat হ্যাকার ভাড়া করে থাকে, ঐ হ্যাকার ঐ মিডিয়া ডিভাইস, সফটওয়্যার বা ওয়েবসাইট হ্যাক করে মালিককে জানিয়ে দেয় কি দূর্বলতা বা কি ভুলের কারণে তার মিডিয়া ডিভাইস, সফটওয়্যার বা ওয়েবসাইট হ্যাক হতে পারে। আর মালিক ঐ সব দূর্বলতা বা ভুলের ঠিক করে নেন।

Blackhat hacker (ব্ল্যাকহেড হ্যাকার) : Blackhat হ্যাকাররা কারো ক্ষতি করার উদ্দেশ্য নিয়ে হ্যাক করে, যেমন- ব্যাংক থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া, হ্যাক করে টাকা আদায় করা,  প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য, মজা করার জন্য বা নিজের দক্ষতা দেখানোর জন্য, আরো বিভিন্ন কারনে হ্যাক করে থাকে।

Greyhat hacker (গ্রেহেড হ্যাকার) : যে হ্যাকার  কথনও  Blackhat কথনও  Whitehat হিসেবে কাজ করে তাকে Greyhat  হ্যাকার বলা হয় ।

হ্যাকার সম্পর্কে আমারদের ভুল ধারনা
চুরি হওয়ার ভয়ে টাকা পয়সা ব্যাংকে রাখা হয় আর ব্যাংকের নিরাপত্তা প্রহরী দিন রাত পরিশ্রম করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। আমরা চুর কে খারাপ বলতে পারি কিন্তু নিরাপত্তা প্রহরীকে খারাপ বলতে পারিনা। ঠিক সে ভাবে Whitehat hacker বা Ethical hacker হ্যাকারা ইন্টারনেটে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেছে, তাই আমরা নির্দিধায় ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারতেছি। তাই আমরা হ্যাকার মানে খারাপ বলতে বা ভাবতে পারিনা।

হ্যাকারা কতটুকু  দক্ষ ?
আমি মনে করি, একজন ভাল হ্যাকার একজন ডেভেলপারের চেয়ে বেশি দক্ষ কারণ, একজন ডেভেলপারের ডেভেলাপ করা ডিভাইস, সফটওয়্যার বা ওয়েবসাইটের ত্রুটি ধরতে হলে ডেভেলপারের চেয়ে বেশি দক্ষ হতে হবে।

হ্যাকারদের ক্যারিয়ার
বড় বড় কোম্পানী  নিজেদের  ডিভাইস, সফটওয়্যার বা ওয়েবসাইট হ্যাকিং থেকে বাঁচাতে নিরাপত্তা প্রহরী হিসেবে  Whitehat hacker বা Ethical hacker নিয়োগ দিয়ে থাকে। এ ছাড়া অনেক কোম্পানী তাদের ডিভাইস, সফটওয়্যার বা ওয়েবসাইট হ্যাক করতে পারলে বড় অঙ্কের পুরষ্কার ঘোষনা করে রেখেছে। যেমন facebook, google, আরো আছে ।